SEO

কন্টেন্ট রাইটিং কি? কীভাবে কন্টেন্ট রাইটিং করে আয় করা যায়?

বর্তমান সময়ে কন্টেন্ট শব্দটির সাথে আমরা সবাই মোটামুটি পরিচিত। ইন্টারনেটের এই যুগে কন্টেন্টের চাহিদা ব‍্যাপক। ইনকামের একটি বড় মাধ‍্যম হিসেবে দাঁড়িয়েছে কন্টেন্ট। বর্তমানে বিভিন্ন ছোট বড় অনেক কোম্পানি বা ব‍্যবসা প্রতিষ্ঠান গুলো তাদের প্রোডাক্ট বা সার্ভিস গুলো অনলাইনে প্রচার করার জন‍্যও কন্টেন্ট ব‍্যবহার করে থাকে।
এই আর্টিকেলের মাধ্যমে আমরা কন্টেন্ট কি, কন্টেন্ট রাইটিং কি, কন্টেন্ট রাইটার কাকে বলে, কন্টেন্ট কত ধরনের হয়, কন্টেন্ট লিখে আয় করা সম্ভব কিনা তা জানতে পারবো। তাছাড়াও এই আর্টিকেলটি পড়ার পর খুব সহজেই কিভাবে কন্টেন্ট থেকে ইনকাম করা যায় তাও শিখতে পারবো।


কন্টেন্ট কি


সাধারণত আমরা ইন্টারনেটে যে বিভিন্ন ছোট বড় গল্প, ছবি, অডিও, ভিডিও ইত্যাদি দেখি বা শুনি সবই মূলত কন্টেন্ট। কন্টেন্ট হচ্ছে একটি ইংরেজি শব্দ। যার বাংলা অর্থ হচ্ছে বিষয়বস্তু। কন্টেন্ট বা বিষয়বস্তু হচ্ছে এমন কিছু মাধ্যম যা দিয়ে কোন বিষয়কে সুন্দরভাবে প্রকাশ করা যায় বা বিস্তারিত বর্ণনা করা যায়। তাছাড়া কন্টেন্ট হচ্ছে নিজের সৃজনশীলতাকে প্রকাশ করার সুন্দর একটি মাধ্যম।

কন্টেন্ট রাইটিং কি?


কন্টেন্ট রাইটিং (Content Writing) হচ্ছে কোন একটি বিষয়কে একটি সুন্দর বর্ণনায় একটি লিখনির মাধ্যমে সুন্দরভাবে উপস্থাপন করা যেটা থেকে কেউ কোনকিছু সম্পর্কে জানতে পারবে। সেটা যেকোনো বিষয়ের উপরেই হতে পারে। আমাদের কোনো বিষয় সম্পর্কে জানতে হলে গুগলে সার্চ করার পর যে আর্টিকেল বা লেখা গুলো আমাদের সামনে আসে এবং আমরা আমাদের সঠিক তথ‍্যটি খুঁজে পাই সেগুলোই হচ্ছে কন্টেন্ট রাইটিং। সহজ কথায় বলতে গেলে কন্টেন্ট রাইটিং হচ্ছে একটি লিখনি যেখানে এক বা একাধিক বিষয়ের উপর তথ‍্য পাওয়া যায়।
কন্টেন্ট রাইটার
কেউ যখন নিজের জ্ঞান-বুদ্ধি, অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা দিয়ে কোনো বিষয়ের উপর সুন্দর একটি লিখনি তৈরি করেন এবং তা থেকে কিছু তথ‍্য জানতে পারা যায় তখন যে ব‍্যক্তি এই লিখনি লিখেছেন তাকেই মূলত বলা হয় কন্টেন্ট রাইটার।

কন্টেন্ট কত ধরনের হয়


কন্টেন্ট সাধারণত অনেক ধরনের হয়ে থাকে। যেমন:

  • অডিও কন্টেন্ট (Audio Content)
  • ভিডিও কন্টেন্ট (Video Content)
  • টেক্সট বা লিখিত কন্টেন্ট (Text Content)
  • ছবি বা গ্রাফিক্যাল কন্টেন্ট (Image Content)
  • সব ধরনের কন্টেন্টই মূলত এই চারটি কন্টেন্টের অন্তর্ভুক্ত।

কন্টেন্ট আরো অনেক ধরণের হতে পারে যেমন:

  • ব্লগিং কন্টেন্ট – যেমন: কোনো খাবারের রিভিউ অথবা খাবার তৈরির প্রক্রিয়া নিয়ে কন্টেন্ট
  • ইবুক রাইটিং
  • পত্রিকায় ম‍্যাগাজিন লিখা
  • কোনো বইয়ের
  • রিভিউ নিয়ে কন্টেন্ট
  • কোনো ব‍্যবসা প্রতিষ্ঠানের পণ‍্যের বিবরণ দিয়ে লিখিত কন্টেন্ট
  • কোনো ভিডিওর স্ক্রিপ্ট নিয়ে কন্টেন্ট
  • এবং ইউটিউবের ভিডিওর ডেস্ক্রিপশনের বর্ণনাও এক ধরনের কন্টেন্ট।
  • এই সবগুলোকে একসাথে ডিজিটাল কন্টেন্টও বলা যায়। আবার অনেকে বিভিন্ন স্যোশাল মিডিয়ায় কন্টেন্ট ক্রিয়েট করে ইনকাম করছে।


কীভাবে কন্টেন্ট রাইটিং করে আয় করা যায়?


কন্টেন্ট লিখে কী সত্যিই ইনকাম করা যায়? হ্যাঁ, যায়। প্রথমেই আমরা বলেছি যে বর্তমানে কন্টেন্ট ইনকামের একটি বড় মাধ‍্যম হিসেবে দাঁড়িয়েছে। কন্টেন্ট লিখে এখনকার সময়ে বিভিন্ন সাইট থেকে মানুষ বিভিন্নভাবে ইনকাম করছে। কেউ ইউটিউবে ভিডিও কন্টেন্ট বানিয়ে ইউটিউব থেকে ইনকাম করছে। আবার কেউ স্যোশাল মিডিয়ায় নিজের লেখা বা অডিও, ভিডিও কন্টেন্ট বানিয়ে প্রকাশ করে আয় করছে। এছাড়াও আপনি একটি ব্লগ সাইট তৈরি করে নিজের অভিজ্ঞতা, দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে সেখান থেকেও ইনকাম করতে পারেন।


কন্টেন্ট রাইটিং যেভাবে শুরু করবেন


কন্টেন্ট তৈরি শুরু করার জন‍্য প্রথমে আপনাকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে আপনি ডিজিটাল কন্টেন্টের কোন বিষয়ের উপর কন্টেন্ট তৈরি করবেন। অডিও কন্টেন্ট, ভিডিও কন্টেন্ট নাকি লিখিত কন্টেন্ট।


১. অডিও কন্টেন্ট
কোনো একটি বিষয়ের উপর একটি অডিও ফাইল তৈরি করাকেই অডিও কন্টেন্ট বলা হয়। অডিও কন্টেন্টে সাধারণত ছবি থাকে না।

শুধু মাত্র শুনতে পারা যায়। অডিও কন্টেন্ট তৈরি করতে চাইলে আপনি বিভিন্ন মোটিভেশনাল কথা বা আর্টিকেল রেকর্ড করে অনলাইনে আপলোড করে ইনকাম করতে পারেন।
২. ভিডিও কন্টেন্ট
আমরা ইউটিউবে,বিভিন্ন টিভি চ্যানেলে, ফেসবুকে এছাড়াও আরো অন‍্যান‍্য স্যোশাল মিডিয়াতে যে ভিডিও গুলো দেখে থাকি সেগুলোই ভিডিও কন্টেন্ট। ভিডিও কন্টেন্ট তৈরির জন‍্য প্রথমে কী নিয়ে ভিডিও তৈরি করবেন সেটা আপনাকে ঠিক করতে হবে। অনেক ধরনের কপিরাইট ফ্রি মিউজিক আছে যেগুলো দিয়ে আপনি নিজের একটি আইডিয়া কাজে লাগিয়ে ভিডিও বানিয়ে নিজের কোনো ইউটিউব চ‍্যানেল বা ফেসবুক পেজে আপলোড করে সহজেই ইনকাম করতে পারেন।
৩. লিখিত কন্টেন্ট
ডিজিটাল মাধ্যমে বর্তমানে লিখিত কন্টেন্টের চাহিদা অনেক। ওয়েবসাইট গুলোতে আমরা বিভিন্ন টপিক নিয়ে যে আর্টিকেল গুলো দেখতে পাই এ সবই লিখিত কন্টেন্ট। লিখিত কন্টেন্ট তৈরির জন‍্য আপনাকে প্রথমে একটি কীওয়ার্ড নির্বাচন করতে হবে। যেটি পুরো কন্টেন্টটির গুরুত্ব বহন করবে। এরপর আপনি পুরো কন্টেন্টটি ওই কীওয়ার্ডকে কেন্দ্র করে সহজেই লিখতে পারবেন।
৪. ছবি কন্টেন্ট
সৃজনশীল স্থির দৃশ্যমান বস্তুকে ছবি বা ছবি কন্টেন্ট (Image Content) বলে। ছবি কন্টেন্ট তৈরিতে বিভিন্ন টুলস বা সফটওয়্যার ব্যবহার করা হয়। বহুল ব্যবহৃত কম্পিউটার সফটওয়্যার যেমন: Adobe Photoshop ও Adobe Illustrator. আবার জনপ্রিয় অনলাইন এডিটিং টুলস হলো Canva. Image Content Creation কে পেশা হিসেবে নিতে আপনাকে অন্তত Photoshop ও Illustrator এর ব্যবহার শিখতে হবে।

এবিষয়ে আগ্রহ থাকলে গ্রাফিক্স ডিজাইনার হিসাবে ক্যারিয়ার গড়তে পারেন।
উপরে আলোচিত বিভিন্ন কন্টেন্ট টপিকস থেকে একটি বেছে নিয়ে খুব সহজেই যে কেউ কন্টেন্ট ক্রিয়েশনের পথে যাত্রা শুরু করতে পারবেন।

আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ এপর্যন্ত পড়া চালিয়ে যাওয়ার জন্য। আজকের মতো কন্টেন্ট রাইটিং বিষয়ক আলোচনা এখানেই শেষ করছি। লেখাটি পড়া শেষে আপনার অনুভূতি কমেন্ট সেকশনে লিখতে ভুলবেন না যেন! আর হ্যাঁ, অবশ্যই উল্লেখ করবেন আপনি কোন বিষয়ে কন্টেন্ট ক্রিয়েশনের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

হ্যাপি কন্টেন্ট ক্রিয়েশন। হ্যাপি ব্লগিং।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *